বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ, এনএসটি ফেলোশিপ এবং বিশেষ গবেষণা অনুদান পেলেন যে ২০ গবেষক

৩ মার্চ, ২০২২ ১২:০০  
জাতীয় উন্নয়নে গবেষণার জন্য আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০ জন শিক্ষক, বিজ্ঞানী, গবেষক এবং বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুইটি বৃত্তি ও একটি গবেষণা অনুদান দিলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে নির্বাচিত গবেষকদের মধ্যে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। এসময় বঙ্গভবন থেকে অনুষ্ঠানে সংযুক্ত থেকে হাত তালি দিয়ে অনুদান প্রাপ্তদের গবেষণায় অনুপ্রাণিত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধান অতিথির বক্তেব্যের শুরুতেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাহায্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরি করার ফলে অতিমারিতে রাষ্ট্র সচল রাখা সম্ভব হয়েছে বলে আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করেন সরকার প্রধান। একইসঙ্গে আগামীতে দেশের সবাই প্রযুক্তি জ্ঞান সমৃদ্ধ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ডেল্টা প্লান দিয়ে কাঠামো তৈরি করে দিয়েছি। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগুলো সংশোধন করে, এর ওপর ভিত্তি করে যদি পরিকল্পনা নিয়ে আমারা এগুতো পারি তবে বাংলাদেশের মানুষকে কোনো দিন কেউ আর দাবায়ে রাখতে পারবে না।
দেশে-বিদেশে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এমএস, এমফিল, পিএইচডি ও পিএইচডি-উত্তর প্রোগ্রামের জন্য ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ’ প্রদান করা হয়। ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৯৬ জনকে ২২৫ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া এমফিল, পিএইচডি ও পিএইচডি-উত্তর পর্যায়ে ‘জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ’ প্রদান করে ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত ২২ হাজার ২২০ জন ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকদের মধ্যে ১৩৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। ফেলোশিপের পাশাপাশি বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মধ্যে বিশেষ অনুদান প্রদান করছে সরকার। গত ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে চলতি অর্থবছর পর্যন্ত ৫ হাজার ২০টি প্রকল্পের অনুকূলে ১৭৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রথমবার ক্ষমতায় এসেই আমি শুধু গবেষণার জন্য ১২ কোটি টাকা অনুদান দেই। পরবর্তী বছরের বাজেটে আলাদা করে ১০০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা শুরু করি। কম্পিউটার শিক্ষা ও বিজ্ঞানের ওপর গবেষণার জন্য। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান শিক্ষায় অনীহা দেখা দেয়ায় আমি তখন ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করি। যে নো আমাদের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান পড়ায় আরো আকর্ষিত হয়। অনেক বাধা পেড়িয়ে প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। নভোথিয়েটার করতে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া ২টি মামলা দিয়েছিলো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গবেষণার ফলেই আজ আমরা এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি। এজন্য ইতিমধ্যেই গবেষণা ও প্রযুক্তি বান্ধব বেশ কিছু আইন ও নীতিমালা আমরা প্রণয়ন করেছি।
অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ’ বৃত্তি গ্রহণ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স বিভাগের শিক্ষক দীলিপ কুমার সরকার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিটিসি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মোঃ শহীদুল ইসলাম, মৎস অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মোঃ কামরুজ্জামান হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক সাকিবুল ইসলাম, বুয়েটের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ফাতেমা জেরিন ফারহানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্র অ্যান্ড মলিক্যুলার বায়োলজি বিভাগের শিক্ষক হোসনে আরা আক্তার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা বেগম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্র অ্যান্ড মলিক্যুলার বায়োলজি বিভাগের গবেষক আফসানা বেগম। ‘বিশেষ গবেষণা অনুদান’ এর চেক গ্রহণ করেন গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনোকলজি অবসট্রাটিক অ্যান্ড প্রোডাক্টিভ হেলথ বিভাগের শিক্ষক আবু নাসের মোঃ আমিনুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ড. সৈয়দ মোঃ শামসুদ্দিন, বুয়েট শিক্ষক ড. পারভিন সুলতানা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অনিন্দিতা দত্ত, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সুমাইয়া মামুন। এছাড়াও ‘এনএসটি ফেলোশিপ’ প্রদান করা হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহের শিক্ষক উম্মে সালমা, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার শিক্ষক গায়ত্রী সূত্র ধর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিভাগের শিক্ষক হুমায়রা আঞ্জুমি, প্রাণীবিদ্যা বিভাগের আতিয়া সানজিদা, লেদার প্রোডাক্টস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক সুমাইয়া মিম এবং মোঃ জাওয়াদ হাসান-কে।
অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব জিয়াউল হাসান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আ ফ ম রুহুল হক সহ অংশীজনেরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।